তামিম ইকবাল জনপ্রিয়তায় মাশরাফি ও সাকিবের চেয়ে বেশ পিছিয়ে থাকলেও খেলার পরিসংখ্যান কোন অংশেই কম নয়।

Share with social media…
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জনপ্রিয়তায় মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের চেয়ে তামিম ইকবাল একটু পিছিয়েই। অন্তত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অনুসারীসংখ্যা সেটিই বলছে। ফেসবুকে সাকিবের অনুসারী যেখানে ১ কোটি ৩ লাখ, মুশফিকের ৮৯ লাখ, মাশরাফির ৮৪ লাখ; তামিমের অনুসারী সেখানে ১৩ লাখ ৯৪ হাজার। তবে পরিসংখ্যানে দুই সতীর্থের চেয়ে বেশ এগিয়ে বাঁহাতি ওপেনার।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে কাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচসেরা হয়েছেন তামিমই—৪২ ম্যাচে পাঁচবার তাঁর হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। এই সময়ে তামিমের সমান ম্যাচ খেলে সমান চারবার করে ম্যাচসেরা সাকিব ও মুশফিক।

খানিকটা আড়ালে থাকায় তামিমের সুবিধাই হয়েছে। প্রত্যাশার চাপটা গায়ে লাগছে কম! কাল বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৬ হাজার রানের মাইলফলক গড়েও চোখে পড়ার মতো উদ্‌যাপন করেননি। এক ভেন্যুতে সর্বোচ্চ রানের কীর্তি গড়েও তা-ই।

নির্ভার, লক্ষ্যে অবিচল ব্যাটিং করেই ২০১৫ সাল থেকে ৪২ ওয়ানডেতে তামিমের ব্যাটিং গড় ৫৫.১০। এ সময় ব্যাটিং গড়ে পঞ্চাশের কোটা ছুঁতে পারেননি বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ৪৭.৪০ ব্যাটিং গড় মুশফিকুর রহিমের। এ তিন বছরে সেঞ্চুরি (৫), ফিফটি (১৪) আর রানেও (২০৩৯) সতীর্থদের চেয়ে এগিয়ে তামিম।
গত তিন বছরে তামিম ধারাবাহিকতায় পেছনে ফেলেছেন স্টিভেন স্মিথ (৬১ ম্যাচে ৪৮.৯০ গড়ে ২৪৯৪ রান) ও কেন উইলিয়ামসনের (৬৪ ম্যাচে ৪৮.৮৬ গড়ে ২৯৩২ রান) মতো ব্যাটসম্যানদের। গত দুই বছরে ২৪ ম্যাচে ৬১.৭৬ ব্যাটিং গড়ে ১২৯৭ রান করেছেন তামিম। এই সময়ে ৩০ ম্যাচে ৫২.৯৫ গড়ে ১১১২ রান করেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ডেভিড ওয়ার্নার (৩৯ ম্যাচে ৫৭.৪০ ব্যাটিং গড়), শিখর ধাওয়ান (২৭ ম্যাচে ৪৯.৮৮ ব্যাটিং গড়) কিংবা মার্টিন গাপটিলের (৩২ ম্যাচে ৪৯.০০ ব্যাটিং গড়) মতো ওপেনাররাও এ সময়ে তামিমের চেয়ে পিছিয়ে।
তামিম এই ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করেছেন। ছন্দে থাকার পরও তাঁর সন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয়। শেষ দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির সুবাস পেতে পেতেও যে হয়নি! কাল আরেকটি সেঞ্চুরি হাতছাড়া করে তামিম ভীষণ হতাশ, ‘সেঞ্চুরি করতে পারলে ভালো হতো। গত তিন ম্যাচে এত দূরে এসেও সেঞ্চুরি করতে না পারাটা সব সময়ই হতাশার। আমার বলার দরকার নেই, আপনারাও বুঝছেন। আজও (কাল) ভালো সুযোগ ছিল। যদি আরও ৬-৭ ওভার ব্যাটিং করতে পারতাম, সেঞ্চুরি করতে পারতাম।’
কাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্মারক সংগ্রাহক এক সাংবাদিক ম্যাচের স্কোর কার্ডে তামিম লিখেছেন, ‘আরও অনেক রান করতে পারলে খুশি হব।’ আড়ালে থাকলেন কী থাকলেন না, সেটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রানের এই খিদে। এ রান তৃষ্ণাটাই ধরে রাখুন তামিম।

Leave a comment

Your email address will not be published.


*