বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলো বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উতক্ষেপন
Share with social media…
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অবশেষে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি গতকাল শুক্রবার রাতে উৎক্ষেপণ করা হলো। এ রকেটটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে। এমনকি একই দিনে একাধিকবার তা মহাকাশে পাঠানো যাবে। এর আরও উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করে মহাকাশে যাবে মানুষ।

স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক বলেন, একই রকেট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনর্ব্যবহার বেশ কঠিন। আগামী বছর এ বাধা দূর হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি সর্বশেষ ও চূড়ান্ত সংস্করণটি ১০ বারের বেশি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। এমনকি তা ১০০ বার পর্যন্ত পাঠানো হতে পারে।  ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণের প্রথম সফল উৎক্ষেপণ এটি। এটিকে ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ রকেট বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াটি দুভাবে সম্পন্ন হবে। প্রথম প্রক্রিয়াটি হলো উৎক্ষেপণ ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে যাওয়ার প্রাথমিক পর্যায় পেরোনো। এই প্রক্রিয়ার জন্য সময় লাগবে ১০ দিন, যেটি গতকাল শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে কক্ষপথের নির্দিষ্ট স্থানে জায়গা করে নেবে স্যাটেলাইটটি। এ জন্য সময় লাগবে ২০ দিন। সব মিলিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে স্থাপিত হতে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কমপক্ষে এক মাস সময় লাগবে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বহনকারী ফ্যালকন-৯ রকেটের চারটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশে থাকবে স্যাটেলাইট এবং এরপর অ্যাডাপ্টর। অ্যাডাপ্টরের নিচের অংশটিকে বলা হয় স্টেজ-২ এবং রকেটের শেষের অংশকে বলা হয় স্টেজ-১। একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-১ খসে পড়বে এবং এটি পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এরপর রকেটের স্টেজ-২ স্যাটেলাইটটিকে কক্ষপথের দিকে নিয়ে যাবে।

স্যাটেলাইটটি কার্যকর হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ যাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ায় অবস্থিত তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে। এই তিনটি স্টেশনের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস এটি পর্যবেক্ষণ করবে। থ্যালেস প্রথম তিন বছর বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে স্যাটেলাইটটি পর্যবেক্ষণের কাজ করবে। এই সময়ে সক্ষমতা তৈরি হয়ে গেলে এর দেখাশোনার দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপরই ছেড়ে দেবে ফরাসি কোম্পানিটি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উতক্ষেপন

বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন (ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা) তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনটিই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন। জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে স্যাটেলাইটের সংকেত আদান-প্রদানে ১০ টন ওজনের দুটি অ্যানটেনা স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাউন্ড স্টেশনে কাজ করার জন্য ১৮ জন বাংলাদেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে থ্যালেস।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে বলেন, ‘থ্যালেসের লোকজন আমাকে বলেছেন, আমাদের ১৮ জন ছেলেমেয়ে এখনই এই স্যাটেলাইট পরিচালনা করার দক্ষতা অর্জন করেছে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের একটি বড় অর্জন।’

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। এটি তৈরিতে খরচ ধরা হয় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এই ঋণ দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি।

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

 

উৎক্ষেপণ সময়: ২টা ১৪ মিনিট

রকেটের নাম: ফ্যালকন-৯

উৎক্ষেপণকারী: স্পেসএক্স

স্থান: কেনেডি স্পেস সেন্টার

 

Related Posts

  • 65
    মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন ঠিকই সফল হলো বাংলাদেশের। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্বাধীনতার ৪৭ বছর শেষে বিরল এই সম্মান অর্জন করলো বাংলাদেশ। হাজারও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, সকল আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে ঠিকই সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস। শুক্রবার (১১ মে) দিনগত রাত (বাংলাদেশ সময়) ২টা ১৪ মিনিটে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ…
    Tags: বঙ্গবন্ধু, স্যাটেলাইট, স্যাটেলাইটের, করে, হয়, হাজার, বাংলাদেশের, উৎক্ষেপণ, হবে, এবং

Leave a comment

Your email address will not be published.


*