যুগে যুগে জামায়াত এ দেশে বিতর্কিত হয়ে গিয়েছিলো

যুগে যুগে জামায়াত এ দেশে বিতর্কিত হয়ে গিয়েছিলো

Share with social media...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জামায়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক গত শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দল থেকে পদত্যাগ করেন। দলের আমির মকবুল আহমাদের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি। একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার আলোকে ও অন্যান্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনায় এনে দলটি নিজেদের সংস্কার করতে পারেনি। পদত্যাগপত্রের এক জায়গায় আবদুর রাজ্জাক লেখেন, ‘ডিসেম্বরের নির্বাচনের (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) পর জানুয়ারি মাসে জামায়াতের করণীয় সম্পর্কে আমার মতামত চাওয়া হয়। আমি যুদ্ধকালীন জামায়াতের ভূমিকা সম্পর্কে দায়দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিই। অন্য কোনো বিকল্প না পেয়ে বলেছিলাম, জামায়াত বিলুপ্ত করে দিন।’

আবদুর রাজ্জাক বলেন, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নাসিম হাসান শাহ তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি শুনেছি তুমি জামায়াত করো। তোমাকে একটা কথা বলি। দল হিসেবে ৭১-র বিষয়টির যদি সুরাহা না করতে পারো, তাহলে জামায়াত বেশি দূর এগোতে পারবে না।’

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে নিজের যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি তো একজন মুসলিম ডেমোক্র্যাট এবং ইসলামি মূল্যবোধ, যেটা আমি তো মনে করি সবচেয়ে বড় মূল্যবোধ। যদিও আমি মনে করি ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর মধ্যেই ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে। সুতরাং, এই মূল্যবোধের প্রসার ঘটানোর জন্যই আমি মনে করেছিলাম যে জামায়াত উপযুক্ত ফোরাম।’ এখন জামায়াতের বিকল্প হিসেবে তিনি মনে করেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের অধীনে মুসলিম উদার গণতান্ত্রিক দলের প্রয়োজন এবং সম্ভাবনা আমি দেখছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *