হতাশ করেছে প্রভাসের অ্যাকশন থ্রিলার ‘সাহো’

হতাশ করেছে প্রভাসের অ্যাকশন থ্রিলার ‘সাহো’

Share with social media...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হতাশ করেছে প্রভাসের অ্যাকশন থ্রিলার ‘সাহো’- ২০১৯ সালের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সাহো’। দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্যের ট্রেলার দেখিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিলেন এর নির্মাতারা। ফলে সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন দর্শকরা। কিন্তু শুক্রবার (৩০ আগস্ট) মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি দেখার পর দর্শক, সমালোচকদের মন্তব্যে শুধু হতাশাই প্রকাশ পাচ্ছে।

বলিউডের প্রখ্যাত বাণিজ্য বিশ্লেষক তরণ আদর্শ সিনেমাটি দেখে এক কথায় মন্তব্য করেছেন, ‘অসহ্য’। তিনি একে রেটিং দিয়েছেন ১/২। সিনেমাটিকে মেধা, বড় অংকের অর্থলগ্নি ও সম্ভাবনার ‘বিশাল অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার দৃষ্টিতে সিনেমাটির কাহিনী দুর্বল প্রকৃতির, চিত্রনাট্য বিভ্রান্তকারী এবং পরিচালনা হয়েছে একদম অপেশাদারী।

সিনেমা সমালোচক শুভ্রা গুপ্তা ‘সাহো’কে দিয়েছেন এক দশমিক পাঁচ স্টার। তার মতে, একটি থ্রিলার সিনেমার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে এই সিনেমাতে। শ্বাসরুদ্ধকর ও চমৎকার কিছু দৃশ্য আছে এখানে। তবে সিনেমাটিকে একটা ‘স্যাঁতসেঁতে পটকা বাজি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।

‘দেশদ্রোহী’খ্যাত অভিনেতা-প্রযোজক কামাল আর খান তার টুইটারে লিখেছেন, ‘সাহো’ এতটাই চমকপ্রদ একটি সিনেমা যে, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সিনেমার প্রতীক হিসেবে হলিউডের জাদুঘরে একে রাখা উচিত। বিশ্বজুড়ে চিত্রনাট্যকারদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে, যিনি আগামী একশ’ বছরের মধ্যে এই সিনেমার কাহিনী বুঝতে পারবেন, তাকে দুই হাজার কোটি রুপি দেওয়া হবে।’

‘সাহো’ একটি বিরক্তিকর ও ক্লান্তিকর সিনেমা। এখানে চরিত্রগুলো ফুটে ওঠেনি। অ্যাকশন দৃশ্যের ভিড়ে সিনেমার চিত্রনাট্য পরিষ্কার বোধগম্য না। প্রভাসের উপস্থিতিতেও জৌলুশের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মুভি ক্রো। 

একজন দর্শক মত প্রকাশ করেন, সিনেমাটি ‘ফ্লপ ফ্লপ ফ্লপ’। এখন বোঝা গেল, চিত্রনাট্য এবং পরিচালকের ঊর্ধ্বে অভিনেতার অবস্থান নয়। ‘সাহো’র হিন্দি সংস্করণটি একেবারেই ভয়াবহ।

তবে অনেক দর্শকই দারুণ উপভোগ করেছেন সিনেমাটি। বিশেষত সিনেমাটির ভিজুয়াল ইফেক্ট দেখে প্রশংসা করেছেন সমালোচকরাও।

ফিল্মলাইন রিভিউ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে টুইটারে জানিয়েছে, ‘সাহো’ সত্যিই অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপনের যোগ্য। এর দৃশ্যায়নগুলো শ্বাসরুদ্ধকর। প্রভাস তার নিজের ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন। আর শ্রদ্ধা কাপুরও ভালো পারফর্ম করেছেন। 

‘সাহো’কে পাঁচে তিন দশমিক সাতপাঁচ দিয়ে বেশ এগিয়ে রেখেছে কলিউড স্ট্রিট। প্রথম অর্ধেকে সিনেমাটির গতি কিছুটা শ্লথ। কিন্তু বিরতির আগেই চমক দেখানো হয়েছে। সিনেমার বাকি অর্ধেকটা অ্যাকশন দৃশ্যে ভরপুর। নিশ্চিতভাবেই সিনেমাটি ব্লকবাস্টার হতে যাচ্ছে বলে মনে করে এই বিনোদনভিত্তিক সংবাদসংস্থাটি।

ভাস্কর অগ্নিহোত্রী নামে এক সিনেমাপ্রেমী তার রিভিউতে লেখেন, এটা আশ্চর্য বিষয়, যে সিনেমায় ভালো একটি গল্পই নেই, সেখানে এর নির্মাতারা কী করে ৩৫০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করলেন! ‘সাহো’র অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন দেখে দর্শক আশাহত হয়েছে। আশা করি ঋত্বিকের ‘ওয়ার’ দর্শকদের এভাবে বিমুখ করবে না।